Style Options
নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়-এর গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ পেতে নিম্নে লিংকে ক্লিক করুন  |  

নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়-এর ইতিহাস

যশোর জেলার ভৈরব বিধৌত অভয়নগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে গুয়াখোলা পল্লীর এক মনোলোভা প্রাকৃতিক পরিবেশে ১৯৬৪ সালে স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় ছাত্র সমিতি (অরাজনৈতিক), শিল্পপতিগণ, দানশীল ব্যক্তিবর্গ ও সরকারী কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতায় নওয়াপাড়া কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটিতে ৯ একর ৭৫ শতক জমি ও সূরম্য দ্বিতল অফিস, কলা ভবন, দ্বিতল বিজ্ঞান ভবন, একতলা ছাত্রাবাস, দ্বিতল অধ্যক্ষ বাসভবন আছে।

নওয়াপাড়া শিল্পনগর হওয়া সত্ত্বেও ১৯৬৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত এখানে কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় এখানকার ছাত্র/ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা জন্য যেতে হত যশোর ও দৌলতপুর শহরে। এই দুই শহরের দুরত্ব প্রায় ২০ মাইল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত না থাকায় এই অঞ্চলে একটা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
       
এই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫/১/৬৪ ইং তারিখে থানা কাউন্সিলের সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম আলোচনা করা হয় এবং ১৫/৩/৬৪  ইং তারিখে তৎকালীন থানা সার্কেল অফিসার মোঃ আঃ লতিফ এর সভাপতিত্বে রওয়াপাড়া শংকরপাশা হাই স্কুলে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় তৎকালীন নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলীর প্রস্তাবে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সব স্তরের লোক নিয়ে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট একটা জেনারেল কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সভাপতি নিয়োগ করা হয় তৎকালীন অভয়নগর থানার সি, ও আবদুল লতিফকে। পরবর্তীতে মকবুল আহম্মদ এর প্রস্তাবে একটা কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয় যার সভাপতি ছিলেস এস, ডি ও (সদর) আমিনুল ইসলাম (ই, পি, সি, এস) সহ সভাপতি মোঃ আবদুল লতিফ (তৎকালীন সার্কেল অফিসার) সম্পাদক মোঃ মকছেদ আলী ফারাজী, যুগ্ন সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ও অন্যান্য সদস্য।  ক্লাস শুরু করার জন্য রওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দোতলা (বি, ডি, হল) কে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করার জন্য ১৫/৬/৬৪ ইং তারিখে নওয়াপাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেমায়েত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
      
কলেজটির শ্রেণী কার্যক্রম বেশ কিছুদিন বি, ডি হলে চলার পর ছাত্র/ছাত্রী বৃদ্ধি পাওয়ায় কলেজটাকে স্থানান্তর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ২১/৮/৬৪ ইং তারিখে কলেজটিকে স্থানান্তরিত করার জন্য গুয়াখোলা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সমাজ সেবক মরহুম হাবিবুর রহমান সর্দার ৫ একর জমি দানের ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি ও তাঁর ছোট ভাই মরহুম আজাহার আলী সর্দার যৌথভাবে ৫ একর জমি দান করেন। তাঁদের এই মহৎ দানে উৎসাহীত হয়ে আরও কিছু মহৎ প্রাণ ব্যক্তি কলেজটির জন্য বেশকিছু জমি দান করেন তাঁরা হলেন, মরহুম ইয়াছিন আলী সর্দার, আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, মোনছপ বিশ্বাস, শ্রী ননী গোপাল সিংহ। এ ছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আরও কিছু জমি কলেজের জন্য অল্প মূল্যে বিক্রয় করেন। তাঁদের মধ্যে আছেন, সৈয়দ আলী সর্দার, সাহেব আলী সর্দার, মোঃ কাশেম আলী সর্দার, মোমেনা খাতুন, মোঃ রোস্তম আলী গাজী, হোসেন আলী গাজী, ইমান আলী গাজী। ১৯৬৫ সালের শেষের দিকে কলেজটিকে বর্তমান স্থানে (নিজস্ব জায়গায়) স্থানান্তরিত করা হয়। ২৬-১০-৬৫ ইং তারিখে কলেজটি যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক মানবিক এবং বাণিজ্য বিভাগে প্রথম অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞান শাখার অনুমোদন লাভ করে।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অনুমোদিত বিভাগ সমূহ :-
        ১) মানবিক ২) বাণিজ্য ৩) বিজ্ঞান
        স্নাতক পর্যায়ে অনুমোদিত কোর্স ও বিষয় সমূহ :-
        বি, এ (পাস) :- বাং, ই, অর্থ, রাস্ট্র, ইতি, ইস-ইত, দর্শন, বা (সা)
        বি, কমঃ- সকল বাণিজ্য বিষয়।
      
কলেজটির প্রথম দিনকার অধ্যাপকগন হলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা। তিনি ৪/১০/৬৪ হতে ১৫/১১/৮৪ পর্যন্ত অধক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ই কলেজটির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয় এবং কলেজটি একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজের মর্যাদা লাভ করে। অন্যান্যরা হলেন হেমায়েত হোসেন, মোঃ মুজিবুর রহমান, গৌরচন্দ্র বিশ্বাস, ফকির আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
      
কলেজ পরিচালনার জন্য প্রথম দিকে যে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। এই কমিটির রূপরেখা ছিল নিম্নরূপ :-
       
        সভাপতি : এম, এ, করিম (জেলা প্রশাসক, যশোর)
        সহ সভাপতি : এ, ইসলাম (মহকুমা প্রশাসক, যশোর)
        সম্পাদক : মোঃ মকছেদ আলী ফারাজী
        যুগ্ন সম্পদক : ফকির আবদুর রাজ্জাক
        সদস্য : মোঃ আবদুল লতিফ (সার্কেল অফিসার)
        সদস্য : মোঃ নাছির উদ্দীন (টি, এম, ও)
        সদস্য : মিঃ এ শুকুর (এম, ডি-বি, টি মিল)
        সদস্য : মকবুল আহম্মদ
        সদস্য : মোঃ বদরুল আলা (যশোর)
        সদস্য : ডাঃ আহাদ আলী খাঁন (যশোর)
        সদস্য : শেখ মোঃ ছবেদ আলী (সি, ইউ, সি, রাজঘাট)
        সদস্য : আঃ হামিদ বিশ্বাস (সি, ইউ, সি শ্রীধরপুর)
       
এছাড়াও কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যাদের অবদান বিশেষ স্মরনীয় তারা হলেন, মোঃ নওশের আলী (সি, ইউ, সি নওয়াপাড়া) মোঃ হাবিবুর রহমান সরদার, মোঃ আজাহার আলী সরদার, ইয়াছিন আলী সরদার, মেজর অবঃ এস আলম, ননী গোপাল রাহা, আঃ হাকিম ফারাজী প্রমুখ।
      
কলেজটি সুচারু রূপে পরিচলানা ও এর উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে কলেজ পরিচলানা পরিষদের যে সমস্ত সম্পাদকগণ গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা হলেন মোঃ মকছেদ আলী ফারাজী, মকবুল আহম্মদ, প্রাক্তন সংসদ সদস্য শাহ হাদীউজ্জামান এবং যুগ্ন  সম্পাদক হিসাবে ছিলেন ফকির আবদুর রাজ্জাক ও হাবিবুর রহমান।
       
১৯৭০ সালে কলেজটি ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত হয়। কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র আছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী পর্যায়ে কলেজের ফলাফল সব সময়ই সন্তোষ জনক। ক্রীড়াঙ্গনেও কলেজটির বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পর্যায়ে আন্তঃবোর্ড ফুটবলে এই কলেজটি চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ১৯৮০ সালে যশোর বোর্ড আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও এ কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
     
সুদক্ষ অধ্যক্ষ এবং সুযোগ্য অধ্যাপক মন্ডলী দ্বারা পরিচালিত কলেজটি যশোর জেলার একটি প্রচীনতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


তথ্য সূত্র :
শিক্ষালয়ের ইতিকথা
লেখক : অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী